আপনি কি মোজা পায়ে দিয়ে ঘুমান? দেখুন বিজ্ঞান কি বলে

বহু বছর ধরে চলে আসছে এই তর্ক-মোজা সহ নাকি মোজা ছাড়া বিছানায় যাব? তবে বিজ্ঞানের কল্যানে এখন এই তর্কের অবসান হতে চলেছে আশা করা যায়।

আমাদের ব্রেইনকে আমরা একটা ম্যাসেজ দিতে পারি এরকম, “ওহে মস্তিষ্ক, আমার ঘুম পাচ্ছে, আমি বিছানায় গেলাম, তুমি ঘুম পাঠাও।“

অদ্ভুত শোনালো? আসলেই তাই। কিন্তু অবাস্তব না। Sleep.org কি বলেছে শুনুন। ওরা গবেষণা করে দেখিয়েছে যে, “ঠাণ্ডা পা জোড়াকে উষ্ণ করলে শরীরে ভ্যাসোডাইলেশন (vasodilation) হয়। এটা হল রক্তবহনকারী ধমনীর প্রসারিত হবার প্রক্রিয়া। তার মানে পা উষ্ণ থাকলে শরীরের ধমনীগুলো প্রসারিত হতে থাকে। ভাল কথা। কিন্তু প্রসারিত হলে কি ঘটে? এই ঘটনা তখন আমাদেরকে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় যে এখন ঘুমের সময়। যখন হাত ও পায়ের ধমনীগুলো আরও খুলে যায়, তখন সারা শরীরে তাপ ছড়িয়ে পরে। তখন শরীররও ঘুমের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করে।“



অন্যভাবে বললে, বিছানায় আপনার পা জোড়া উষ্ণ থাকা মানে হল নির্ঘুম রাতের পরিমান কমে যাওয়া। শুধু তাই না, উষ্ণতা আপনাকে ঘুমও পাড়িয়ে দেবে তাড়াতাড়ি। এখনও মনে ধরছে না কথাটা? তাহলে ইন্টারন্যাশনাল উইক্‌লি জার্নাল অফ সায়েন্স কি বলেছে একটু দেখে আসুন। ওরা একটা গবেষণা শেষে বলল যে, পায়ে মোজা নিয়ে বিছানায় গেলে অন্য সময়ের তুলনায় গড়পড়তা মিনিট পনের আগে ঘুম চলে আসে। শুধু তাই না, এতে আরও কিছু উপকার আছে যেগুলোর একটা শারীরিক মেলামেশার সময় কার্যকর ভূমিকা রাখে। (ছোটরা দূরে থাক!)

এদিকে প্রথাগত চাইনিজ চিকিৎসাতেও পা মুড়ে ঘুমাতে যাওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। Dr. Elizabeth Trattner, যিনি চাইনিজ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিনের একজন চিকিৎসক, বলছেন, “ঠাণ্ডা বা শীতল পা শরীরের শক্তি দ্রুত শেষ করতে থাকে, শুধু তাই না, শরীরেরর জন্য অতি প্রয়োজনীয়  qi (শক্তি) এবং পুষ্টি বহনকারী রক্তপ্রবাহকেও বাধা প্রদান করে। এজন্য এই শক্তি এবং রক্তের প্রবাহ ঠিক রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। তাই যখন শীতলতা দূর করি, শরীরে এগুলোর প্রবাহ ঠিকঠাক চলতে পারে।“ তিনি আরও বলেন, “ঠাণ্ডা আসলে বাধা হয়ে দাঁড়ায় শক্তি প্রবাহের পথে, কিন্তু অন্যদিকে প্রয়োজনীয় তাপ বা উষ্ণতা এই শক্তি প্রবাহে সহায়তা করে। নিজের মনেই ভেবে দেখুন, উষ্ণ জলে স্নান করার কথা ভাবলে শান্তি লাগে, কিন্তু ঠাণ্ডা জলে স্নান? করার আগেই কাবু হয়ে যাই যেন। ঠাণ্ডা আসলে একরকম স্থবিরতা তৈরি করে যেটা ব্যাথা বা যন্ত্রণার কারণও হয় (যেমন Reynaud’s Syndrome).”

তো এই ছিল মোজা পায়ে ঘুমানো নিয়ে গবেষণালব্ধ তথ্য। ধন্যবাদ গবেষকদের, আর আপনাদের। বিশেষ করে তাদের যারা আজই নিজের মোজা জোড়া খুঁজে ধুয়ে-টুয়ে রোদে দিয়ে রেডি রাখছেন বিছানায় যাবার আগে পায়ে দেওয়ার জন্য।

ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্রঃ

RD
NATURE

 

আপনি কি মোজা পায়ে দিয়ে ঘুমান? দেখুন বিজ্ঞান কি বলে

About The Author
-

4 Comments

  • Oali ullah
    Reply

    জেনে রাখলাম তবে প্রয়োগ সম্ভব না । শত হলেও একটা প্রাকৃতিকতা মিশে আছে তো শরীরে।

    • tipsunbox
      Reply

      হয়ত কারও কারও প্রয়োগ সম্ভব হতেও পারে।
      ধন্যবাদ।

  • tipsunbox
    Reply

    হ্যা, পরতে পারে। তবে শোবার সময়ের জন্য আলাদা মোজা রাখা উচিত।
    ধন্যবাদ।

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>