চুলের যত্নে এগুলো করলে বা ভাবলে চুলের ক্ষতি। (শেষ পর্ব)

চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমরা অনেকেই প্রচুর টাকা খরচ করি, এবং আমাদের চুল আরও আকর্ষণীয় ও পুরু করার জন্য যা করার সবই করি। তবে চুলের উপকারে আসবে কোন পণ্যটি আর কোন উপদেশটা মেনে চলব সেটা মাঝে মাঝে নিরূপণ করাটা কঠিন হয়ে যায়।

তাই জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ব্রাইট সাইড জানাচ্ছে সে সব বানী বা উপদেশ যেগুলো আপনি বিশ্বাস করেন কিন্তু বিশ্বাস করা উচিত না।

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে

মিথ নাম্বার ৬: বাচ্চার বয়স এক বছর হওয়ার আগেই চুল ফেলে দিলে চুল ঘন হয়।

আসলে বিষয়টা হল যে বাচ্চা জন্মের পর যে চুল হয় সেটা দেখতে কেমন উষ্কখুষ্ক দেখায়। মনে হয় যেন মাথায় চুলের বদলে তুলো লাগানো! আর সেই চুলের রঙও গাড় থাকেনা। তো যখন ওদের চুল কেটে দেওয়া হয় তখন যে নতুন চুল গজায় সেটা দেখতে অনেকটা বড়দের মত। ঠিক এখান থেকেই এই ধারণাটা এসেছে মানুষের যে চুল কাটলেই ঘন চুল গজায়। আসলে ঘন ও পুরু চুল এমনিতেই হয় তাতে আপনি চুল কাটুন বা নাই কাটুন। শুধু একটু সময়ের ব্যবধান, এই যা।

মিথ নাম্বার ৫: কেরাটিন স্ট্রেইটেনিং (Keratin straightening) চুলের জন্য ভাল।

ঠিক, এই Keratin straightening এর ফর্মুলা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নত হয়েছে। প্রথমদিকে এতে ফরমালডিহাইড নামক একটা যৌগ ব্যবহার করা হত যেটা মৃতদেহের ময়নাতদন্তের সময় লাগে। কিন্তু এখনকার ফর্মুলা অনুযায়ী যে উপাদান ব্যবহার করা হয় তাতে চুলের গঠন নষ্ট হয়। তাই Keratin straightening এর মাধ্যমে চুলের যত্ন নিতে চাইলে সেটা ক্ষতির কারণ হতে পারে, বরং কসমেটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুলের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।

মিথ নাম্বার ৪: ব্লন্ড মেয়েদের (স্বর্ণকেশীদের) চুল শ্যামাঙ্গিনীর (শ্যামবরণ মেয়েদের) থেকে কম হয়।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন যে স্বর্ণকেশীদের চুল বেশি থাকে শ্যমাঙ্গিনীদের থেকে। কিন্তু তাদের চুল একটু পাতলা হয়ে থাকে। এই কারণে ব্লন্ড বা স্বর্ণকেশীরা সাধারণত তাদের চুলের ঘনত্ব নিয়ে খুশি হতে পারেন না, শ্যামবরণ নারীদের দেখে হয়ত একটু ঈর্ষান্বিত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। কিন্তু অন্যদিকে শ্যামাঙ্গিনীদের চুলের পরিমাণ থাকে কম, তবে সেগুলো সাধারণত পুরু আর মজবুত হওয়ায় তাদের চুলগুলো ব্লন্ডদের চুলের থেকে বেশি স্বাস্থ্যবান দেখায়।

মিথ নাম্বার ৩: সবসময় বেণী বা খোপা করে রাখলে চুল উঠে যায়।

উঠতে পারে যদি শুধুমাত্র চুল এমন শক্ত করে বাঁধা হয় যে মাথায় যন্ত্রণা শুরু হয়। অন্যথায় চুল বাঁধার সাথে সাথে চুল ওঠার সম্পর্ক নেই। আরও বরং পরিপাটি করে চুল বেণী বা ঝুটি করে রাখলে চুল সম্ভাব্য নানা রকমের ক্ষতি থেকে রেহাই পায়।

মিথ নাম্বার ২: খুশকি সংক্রামক

খুশকি হল আপনার মাথার sebaceous নামক গ্রন্থির অতিরিক্ত কাজ করার লক্ষন। যার কারণে অতিরিক্ত পরিমাণে চামড়ার উপরিভাগ উঠে যেতে থাকে এবং দৃশ্যমান হয়। এই কারণে খুশকিওয়ালা কারও ক্যাপ মাথায় দিলে বা তার চিরুনি ব্যবহার করলে খুশকি হবার সম্ভাবনা নেই। তার মানে আবার এটাও না যে নিজস্ব পরিচ্ছনতার কথা ভুলে যেতে হবে।

মিথ নাম্বার ১: নারী ও পুরুষের চুল ভিন্ন

গঠনগত দিক দিয়ে নারী ও পুরুষের চুলের মিল আছে। পার্থক্য হল কিভাবে আমরা আমাদের চুলকে ট্রিট করি তাতে। নারীদের চুল দিনদিন পাতলা হতে থাকে নিয়মিত স্টাইলিং করার কারণে, রঙ করার কারণে, এবং স্যালুনে নানানরকম এক্সপেরিমেন্ট করার কারণে। অন্যদিকে পুরুষেরা তাদের চুলের যত্নের বিষয়ে এতটা যত্নবান না। শুধু তাই না, চুল স্টাইল করা, বা রঙ অথবা চুল নিয়ে নানানরকমের পরিক্ষানিরীক্ষা করার সময় বা কারও ক্ষেত্রে ইচ্ছা না থাকায় তাদের চুল প্রায়ই বেশি ঘন ও স্বাস্থ্যবান থাকে।

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে

ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্রঃ

BRIGHSIDE

চুলের যত্নে এগুলো করলে বা ভাবলে চুলের ক্ষতি। (শেষ পর্ব)

About The Author
-

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>