মুরগীর মাংস রান্নার আগে ধুয়ে নিলেই বিপদ! জেনে নিন বিস্তারিত।

আজ বাড়ি মুরগীর মাংস রান্না করছেন। মাংস কেটেকুটে প্রস্তুত, ধুতে যাবেন। ঠিক তখনই আপনার ফোন বেজে উঠল। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ফোনটা রিসিভ করলেন। অচেনা নাম্বার। একটু নীরব থেকে ওপাশ থেকে ভারি একটা কণ্ঠ বলে উঠলো, “মাংস ধুলেই বিপদ, ঘোরতর বিপদ”

কথা এতটুকুই। এরপর ওপাশ থেকে আর সাড়াশব্দ নেই কোন। ফোনটা নামিয়ে রাখলেন। উড়ো খবরে কান না দিয়ে মাংস ধুতে সিঙ্কের কাছে গেলেন। তখনই মনে একটা খটকা দিয়ে উঠলো। আসলেই কি মাংস ধোয়াতে সমস্যা? ধরে নিলাম ভুয়া কথা। তবু দেখি না একটু চেক করে। গুগল মামা তো আছেই!

মুরগীর কাঁচা মাংস ধোয়াটা একেবারেই বারণ। যদি ভাবেন ভুল বলছি, তাহলে অবাক হব না। তবে সত্যি কথাটা হল মাংস ধোয়া বাদ দিলে আপনি এবং আপনার পরিবার সম্ভাব্য ফুড পয়জনিং থেকে রক্ষা পেতে পারেন ইন শা আল্লাহ্‌।

এবার আসুন দেখি এর পেছনের ঘটনা। সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)’র দেওয়া তথ্যমতে শুধু আমেরিকাতেই প্রতিবছর প্রায় ৩০০০ মানুষ ফুড পয়জনিং বা খাদ্য- বিষঃক্রিয়ায় মারা যায়। মুরগীর কাঁচা মাংসে যেহেতু ব্যাকটেরিয়া থাকে তাই এটাও এক ধরনের পয়জনিং সৃষ্টি করে যার নাম (Campylobacter) । সাধারণ বিবেচনায় মনে হবে যে মাংসে তো এগুলো থাকতেই পারে, তাই ভাল মত পানিতে ধুয়ে নিলে এগুলো দূর হয়ে যায়। তবে আসল কথা হল, দূর তো হয়ই না, বরং এটাই সবচে বিচ্ছিরি অবস্থা তৈরি করে।


এই বিদঘুটে ব্যাকটেরিয়ার কোষগুলো সাধারণত মাংসের সংস্পর্শে আসে প্রাণীজ বর্জ্য (মল) থেকে। যদি আপনার রান্নার জন্য প্রস্তুত করা মাংস আগে থেকেই এই ব্যাকটেরিয়া বহন করে থাকে, তাহলে আপনি যখনই ধোবার জন্য পানি ঢালবেন তখনই সেই পানির ওপর ভর করে ব্যাকটেরিয়াবাহিনী সবদিকে ছড়িয়ে পরবে। শুধু কি মাংসে ছড়াবে? না। ওই মাংসের সংস্পর্শে যা কিছু আসবে-সবকিছুই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত হবে। আপনার হাত, হাড়ি-কড়াই-খুন্তা, এমনকি আপনার গায়ের পোশাক-সবই ঝুঁকির মুখে। এবার NHS UK কি বলছে শুনি। ওরা বলছে, “পানির ছোট ছোট ফোঁটাগুলো সবদিকে ৫০ সেন্টিমিটারেরও বেশী জায়গায় ছড়িয়ে পরে। আর খাবার দূষিত করতে Campylobacter এর মাত্র অল্পকিছু কোষই যথেষ্ট।“

ভাবছেন এই বড় বড় বিদঘুটে ব্যাকটেরিয়া থেকে নিস্তার নেই? আছে। উপায় আছে। আর তা খুবই সহজ। মাংস রান্না করে ফেলুন। (না রেঁধে তো ফেলেও দিতেন না, তাইনা?) তবে কিছু টিপস্‌ দিচ্ছি যেগুলো এসেছে NHS UK থেকে। এগুলো মেনে চললে আশা করা যায় মুরগীর কাঁচা মাংস থেকে সৃষ্ট ফুড পয়জনিং এড়াতে পারবেন।

যা করবেনঃ

  • কাঁচা মাংস ঢেকে ঠাণ্ডা স্থানে রাখুন। দেখবেন যেন মাংস ফ্রিজের সবচে শীতল জায়গায় থাকে যাতে করে মাংস থেকে কোনরকম তরল চুইয়ে বা বেয়ে এসে অন্য খাবারে না মেশে।
  • হাত ও ব্যবহৃত রান্নাসামগ্রী ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। মাংস কাঁটার সময় যা যা ব্যবহার করেছেন তার সবকিছুই ভাল করে কয়েকবার ধুয়ে নিন।
  • ভাল করে+ভাল করে রাঁধুন। প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উচ্চতাপে মাংস ভাল করে রান্না করতেই হবে। ঝোল বা তরল অংশটুকু সচ্ছ হওয়া পর্যন্ত জাল দিন, আরও দেখবেন মাংসে যেন গোলাপি আভা না থাকে। ভাল হয় একটা মাংসের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র (মিট থার্মোমিটার) থাকলে। কমপক্ষে ১৬৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা ৭৪ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় রান্না করুন।

 

ফিরে যাই গল্পে, আপনি মাংসগুলোর দিকে একবার তাকালেন। কল্পনা করলেন আপনার ঢেলে দেওয়া পানিতে ব্যাকটেরিয়া দল উল্লাস করতে করতে আপনার হাতে, জামায় আর বাটি-ঘটিতে ছড়িয়ে পরছে। কিলবিল করছে, গিজগিজ করছে চারিদিক। নাহ! আর ভাবতে পারলেন না। মাংসটুকু একটানে ট্যাপের নিচ থেকে সরিয়ে নিলেন, তারপর ঢেলে দিলেন।

কোথায়?
রান্নার হাড়িতে!

 

ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্রঃ
Curiosity
CDC
NHS UK

মুরগীর মাংস রান্নার আগে ধুয়ে নিলেই বিপদ! জেনে নিন বিস্তারিত।

About The Author
-

2 Comments

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>