যে ৮ টি খাবারের মেয়াদ কখনও শেষ হয়না!

এই খাবারগুলো কমবেশি আমরা খাই। কিন্তু অনেকেই হয়ত জানিনা এগুলোর মেয়াদ সম্পর্কে। আজ জেনে নেই সেই খাবারের কথা যে খাবারের মেয়াদ কখনই শেষ হয়না।

 

  • কাঁচা মধু

মধুকে প্রায়ই বলা হয় “স্রষ্টার দেওয়া ওষুধ” এবং এটার উপকারিতার শেষ নেই। এমনকি চুলের জন্যেও এটা বিশেষ ফলাদায়ক। কোথাও কেটে গেলে মধু দেওয়ার প্রচলন আছে বিশ্বের বেশ কিছু অঞ্চলে। আর গবেষণাও বলছে মধু ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করে। তবে আরও মজার বিষয় হল মধুর মেয়াদ কখনও শেষ হয়না! তাই হাজার বছরের পুরনো মিশরীয় সমাধিতে পাওয়া মধু ভরা ডিব্বা দেখে অবাক হননি গবেষকরা। সেই মধু এখনও দিব্বি খাওয়া যায়! কিন্তু কিভাবে এটা ভাল থাকে? মধু বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এতে থাকে চিনি, উচ্চ পরিমাণে অম্ল (অ্যাসিডিটি) প্রাকৃতিক গ্লূকোনিক অ্যাসিড, প্রাকৃতিক হাড্রোজেন পারঅক্সাইড এবং অবশ্যই খুবই সামান্য পরিমাণ আদ্রতা। এসব কিছুই মূলত মধুকে এমন স্থায়িত্ব দেয়। তবে সংরক্ষণটা সঠিক ভাবে করতে হবে। (এটা নিয়ে লেখা আসছে ইন শা আল্লহ্‌)

  • ভিনেগার (সিরকা)

এমন কিছু কি আছে যেটা অ্যাপল সাইডার ভিনেগার করতে পারেনা? অনেকরকম স্বাস্থ্য-উপকারিতা আছে এর। যেমন ওজন কমানো, পেট ব্যাথা দূর করা, ইত্যাদি। তবে এটার আরও একটা গুণ হল এটা বলতে গেলে আজীবনই ভাল থাকে। এখানেই শেষ না। সাদা ভিনেগার, বালসামিক ভিনেগার, র‍্যাস্পবেরি ভিনেগার, রাইস ওয়াইন ভিনেগার, রেড ওয়াইন ভিনেগার এসব ভিনেগারও মেয়াদউত্তীর্ণ হয়না। কেন? অম্লত্ব বেশি থাকার কারণে ভিনেগার নিজেই নিজের সংরক্ষণ করতে পারে ফ্রিজে না ঢুকেই।

  • কর্ণস্টার্চ

জি, ভুট্টার ময়দা। এটা যদি ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায় তাহলে এটাও চিরস্থায়ী খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। আদ্রতা থেকে দূরে রাখতে পারলে এবং সঠিক পাত্রে সংরক্ষণ করে শুষ্ক ও ঠাণ্ডা স্থানে রাখতে পারলে কয়েক বছরের মাঝে আপনার একবারও উঁকি দিয়ে দেখতে হবেনা।

  • লবন

খাঁটি সোডিয়াম ক্লোরাইড আমাদের এই পৃথিবীতে টিকে আছে কয়েকশ কোটি বছর ধরে। তাই এটাও যে আজীবন ভাল থাকবে এতে আর অবাক হবার কি? বলাই বাহুল্য যে নানানরকমের খাবার সংরক্ষণের জন্য লবন ব্যবহার করা হয়। লবন ব্যাকটেরিয়াদের দূরে রাখে। লবন কোন খাবারের ভেতর থেকে জলকে শুষে নেয় তাই ব্যাকটেরিয়া বাঁচতে পারেনা। এটা একটা খনিজ উপাদান।

  • শুকনো শিম/কলাই

যদি শিমের বীজ, কলাই ঠিকমত শুকনো পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়, ওগুলো ভাল থাকে বছরের পর বছর। দেখতে হবে পাত্রটা যেন বায়ুরোধী হয়। তবে মনে রাখতে হবে পুরনো বীজ রান্না করতেও বেশি সময় লাগে যেটা কারও কারও অপছন্দ হতে পারে।

  • চিনি

লবনের মতই চিনিও যুগযুগ ভাল থাকতে পারে যদি আদ্রতা ও তাপ থেকে দূরে রাখা হয়। হোয়াইট সুগার, হোয়াইট সুগার কিউব, র (কাঁচা) সুগার, ব্রাউন সুগার, পাউডারড্‌ সুগার, সুগার সাবস্টিটিউট সহ প্রায় সবরকম চিনিই অনাদিকাল ভাল থাকে। যদিও দীর্ঘদিন পর চিনির গঠন (টেক্সচার) একটু বদলে যেতে পারে, তবু চিনি কখনও পুরোপুরি মেয়াদউত্তীর্ণ হয়না।

  • খাঁটি ভ্যানিলা নির্জাস (এক্সট্র্যাক্ট)

খাঁটি ভ্যনিলা এক্সট্র্যাক্টের ভেতর থাকে অ্যালকোহল যেটা একে দীর্ঘমেয়াদি করে। শর্ত হল খাঁটি হতে হবে। কারণ যেগুলো ইমিটেশন ভ্যানিলা এক্সট্র্যাক্ট সেগুলোতে অ্যালকোহলের পরিমাণ থাকে অনেক কম। যদি খাঁটি এক্সট্র্যাক্ট সীল করা পাত্রে সংরক্ষণ করতে পারেন তাহলে ব্যাকটেরিয়া আক্রমন করতে পারবে না, আপনার ভ্যনিলাও থাকবে নিরাপদ।

  • সাদা চাল

সবশেষে চাল। যেকোনো স্থানেই রাখুন না কেন, চাল ভাল থাকে। দূষক থেকে দূরে রাখতে পারলে সবরকম চালই টিকে থাকে দীর্ঘদিন। তবে ব্রাউন রাইসের কথা ভিন্ন। এই চালে উচ্চ পরিমাণে তৈল উপাদান থাকে যেটা চালকে এতদিন ভাল থাকতে দেয় না।

এর বাইরেও আরও কিছু খাবার আছে যেগুলো ঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে দীর্ঘদিন নিশ্চিন্ত থাকা যায়। তবে আজ এ পর্যন্তই।

ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্রঃ

RD

যে ৮ টি খাবারের মেয়াদ কখনও শেষ হয়না!

About The Author
-

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>