সুখি হবার গোপন ফর্মুলা! (শেষ পর্ব)

কথোপকথন থেকে শুরু করে ঘরের কাজ, বা কোনকিছু নিয়ে আলোচনা-সবকিছু দারুনভাবে কিভাবে করবেন সেই পরামর্শ দিচ্ছেন সুখি পরিবারের সুখি মানুষগুলো।

 

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে

 

  • ঘরের কাজের একটা ফ্লো-চার্ট তৈরি করুন

তিন কলাম দিয়ে একটা চার্ট একে ফেলুন যেখানে প্রথম কলামের ওপরে থাকবে “যা করতে হবে,” দ্বিতীয় কলামে থাকবে “যা করা চলছে,” এবং শেষেরটায় “যা করা শেষ”। পরিবারের সবাইকে উৎসাহ দিতে হবে যেন তারা যে কোন কাজ শুরু হলে সেটা প্রথম কলামে লিখে ফেলে এবং যতই প্রোগ্রেস হবে ততই পরের কলামে সেটা হালনাগাদ করে রাখবে। এতে করে সবার প্রোডাক্টিভিটি কমপক্ষে দিগুণ হয়ে যাবে আশা করা যায়।

  • একগুঁয়েমি মনোভাব পরিহার করুন

গবেষণা বলছে যে পরিবারে আপনার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে যদি আপনি নমনীয় স্বভাবের হন। সব ক্ষেত্রে তো হওয়া যায় না। কিন্তু কৌশলী হতে পারেন। ঘরে বা বাইরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা বা সবাইকে বিনোদন দেওয়া অথবা পরিবারকে অনুপ্রেরণা –সব কাজেই একটু নমনীয় মনোভাব রেখে চললে দেখবেন সব কাজেই আপনি আগের থেকেও সফল হয়ে চলেছেন। সব মেনে নেওয়া আর নমনীয় থেকে সঠিক জিনিসটা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা কখনই এক না।

  • ক্রীড়ামোদী হন

খেলাধুলা হোক শরীরের সুস্থতার জন্য। জয়ের জন্য নয়। এই বিষয়টা মাথায় রেখে বাচ্চাদের মাঝেও এমন মনোভাব তৈরি করাটা কঠিন হলেও অসম্ভব না। আপনার সন্তান কোন একটা ম্যাচে ভাল স্কোর না করতে পারলে সেটা নিয়ে বকা না দিয়ে, অন্যের সাথে তুলনা না করে বরং বলতে পারেন, “তুমি হয়ত স্কোর করতে পারনি, তবে আমার মনে হয়না তুমি এত সহজে হাল ছেড়ে দেবে।“




  • নিয়মিত একত্রিত হন

পরিবারের মানুষগুলো নিয়মিত মিলিত হলে চমৎকার একটা সুযোগ তৈরি হয় একে অপরের কাছ থেকে ভাল কিছু আচরণ বা অভ্যাস শেখার। এই আভ্যন্তরীণ একচেঞ্জ সম্ভব হয়না পরিবারগুলো এক জায়গায় না এলে।

  • বৃত্তে বসুন

অর্থাৎ পরিবারের সবাই যখন একত্রিত হন তখন L বা V আকৃতিতে না বসে গোল হয়ে বসার চেষ্টা করুন। ১৯৫০ এর দশকে একজন ব্রিটিশ সাইকিয়াট্রিস্ট খেয়াল করলেন যে রোগীদের পাশাপাশি না বসে মুখোমুখি বসলে তারা আরও সুন্দরভাবে নিজেদেরকে প্রকাশ করতে পারেন। একই নিয়ম পরিবারেও খাটে বিশেষ করে সবাই যখন এক জায়গায় মিলিত হয়।

  • “তুমি” বলা বন্ধ করুন

না, আপনাকে তুমি করে বলতে নিষেধ করা হচ্ছে না। “তুমি” না বলে “আমরা” দিয়ে বলতে পারেন। “তোমার জন্য এমন হল” এটা না বলে যদি বলেন, “আমরা এখন কিভাবে এটার সমাধান করব সেটা নিয়ে কথা বলি,” তাহলে কলহ বেশিদূর আগাতে পারেনা।

  • সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৮ টার মধ্যে কঠিন বিষয়ে কথা বলবেন না

শিকাগো’র দুই সাইকলজিস্ট দাবী করেন যে দিন-রাতের মাঝে এই দুই ঘণ্টাই সবচে চাপের হয়ে থাকে। একদিকে বাবা-মা পরিশ্রম শেষে বাড়ি ফেরেন এই সময়ে, আবার বাচ্চারাও সারাদিন স্কুল-কলেজ সেরে হয়ে যায় ক্লান্ত। বাড়ির অন্যান্য সদস্যরাও এই সময়ে বাড়ি ফেরে আর তারাও কমবেশি কোন না কোন কারণে ক্লান্ত থাকেন। তাই কঠিন কথাবার্তা এই সময়ে সারবেন না।

  • যে কোন তর্ক-বিতর্ক তিন মিনিটের বেশি না হোক

ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন এর জন গটম্যান  দেখিয়েছেন যে যে কোন তর্কবিতর্ক বা বাদানুবাদের প্রথম তিন মিনিটের মাঝেই সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে, আর এর পরের সময়জুড়ে শুধুই পুরনো বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি করতে থাকে মানুষ। আর তখন প্রথমের তুলনায় মানুষের কণ্ঠও চলে যায় আরও উঁচু স্কেলে। যেটাকে কেউ কেউ চিল্লা-পাল্লা বলে। তাহলে প্রয়োজনে আলোচনা হোক দীর্ঘ তবে বাকবিতণ্ডা থামুক তিন মিনিটেই।

প্রথম পর্ব পড়তে ক্লিক করুন এখানে

 

তথ্যসূত্রঃ
RD

সুখি হবার গোপন ফর্মুলা! (শেষ পর্ব)

About The Author
-

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>