সুখী হবার গোপন ফর্মুলা! (১ম পর্ব)

কথোপকথন থেকে শুরু করে ঘরের কাজ, বা কোনকিছু নিয়ে আলোচনা-সবকিছু দারুনভাবে কিভাবে করবেন সেই পরামর্শ দিচ্ছেন সুখী পরিবারের সুখী মানুষগুলো।

 

  • সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ে সঙ্গীর পাশে বসুন

বিজ্ঞান বলছে যে পাশাপাশি বসে কিছু নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করলে সেটা আরও বেশি ফলপ্রসূ হয় মুখোমুখি বসে করার থেকে।

 

  • কথা হোক অল্প আলোয়

ডিমলাইটের আলো সাধারণ লাইটের আলোর তুলনায় আপনাকে দেবে আরও আরামদায়ক অনুভূতি। মনে হবে আরও নিরাপদ কোথাও আছেন। তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনারা আরও বেশি পরিমানে নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারবেন, নিজেদের সুন্দর মতামতগুলো বের হয়ে আসতে পারবে।

 

  • কথা চলুক প্রজন্ম ঘিরে

গবেষণা প্রমাণ করে যে যেসব শিশু তাদের পূর্বপুরুষ বা আত্মীয়স্বজনের সাফল্য বা ব্যর্থতা নিয়ে বাবা-মা’র কাছ থেকে জানতে পারে, তারা অন্যান্য শিশুদের তুলনায় বেশি কষ্টসহিষ্ণু হয়ে থাকে, এবং নানানরকম প্রতিকূল পরিস্থিতি তুলনামূলক দারুনভাবে সামাল দিতে পারে।

 

  • কুশন লাগান

এটা একটু অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবে ঘটনা সত্য। আমেরিকার বিশ্বখ্যাত এমআইটি, হার্ভার্ড এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা করে দেখাল যে যখন কেউ কুশন দেওয়া কোন জায়গায় বসে তখন বেশি আরাম অনুভব করে। তাই কঠিন কথাবার্তাগুলো সঙ্গীর সাথে সোফাতে বসেই সারুন। আর পারিবারিক আলাপচারিতা না হয় খাবারের টেবিলেই করবেন।

 

  • দাদা-দাদীদের সাথে রাখুন

নৃতত্ত্ববিদ সারাহ ব্ল্যাফার বলেন, দাদা-দাদীরা হলেন তুরুপের তাসের মত মূল্যবান। ঠিক যেন একটা টেক্কা, সময়মত মেরে দিলেই, ব্যাস। ৬৬টি আলাদা গবেষণায় দেখে গেছে যেসকল মায়েরা তাদের সন্তানদের দেখাশুনা করার জন্য দাদী-নানীর সাহায্য নেন, সেই মায়েদের সন্তানরা আরও বেশি শক্ত-সামর্থ্য হয়ে থাকে, সবকিছুর সাথে মানিয়েও নিতে পারে দ্রুত।

 

  • ভাল বা মন্দ-খুলে বলুন

খেতে বসে আপনারা এক এক করে সারাদিনে ঘটে যাওয়া ভাল ও খারাপ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলুন। এতে যেটা হবে সেটা হল, যখন কোন শিশু এই প্রক্রিয়া দেখতে দেখতে বড় হবে, তখন সে অনেক কিছুই শিখে যাবে। দেখবে ভাল জিনিসের কথা শুনে বাবা-মা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, বা মন্দ জিনিসের প্রতিই বা মনোভাব কেমন ছিল তাদের। বড় হতে হতেই ভেতরটা তাদের আরও পরিণত হয়ে উঠবে।

 

  • একজন সৈনিকের সত্ত্বা ধারণ করুন

এটা খুব দামি এবং একইসাথে কঠিন একটা বিষয়। জেইসন ম্যাকার্‌থি কর্মরত ছিলেন আমেরিকার সামরিক বাহিনিতে। সেখানে একটা বিশেষ ফোর্সে ছিলেন তিনি যেটার নাম গ্রীন বেরেট। তিনি বলেন, “পরিবারের একটা চাওয়া আপনার নিজের চাওয়ার বিপরীতে যেতে পারে। এটা হতে পারে যে কোন মুহূর্তেই। তখন আপনার একটা সিদ্ধান্তে আসতেই হবে। আপনি চাইলে তখন পরিবারের দিকে এগিয়েও যেতে পারেন পরিবারের চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে, অথবা তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়েও নিতে পারেন নিজের চাওয়াকে মূল্যায়ন করে।“ তাই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সময় সার্থকে দূরে রেখে বিশ্বস্ততার পরিচয় দিন।

(চলবে…)

তথ্যসূত্রঃ
RD

সুখী হবার গোপন ফর্মুলা! (১ম পর্ব)

About The Author
-

1 Comment

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>